আগামী ৫০ বছরে বিশ্বমানচিত্র থেকে মুছে যেতে পারে যে ১৫ দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পৃথিবীর মানচিত্রকে আমরা চিরস্থায়ী মনে করলেও সময়ের স্রোতে অনেক বড় বড় সাম্রাজ্য ও রাষ্ট্র বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমান বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে বিশ্বের ১৫টি দেশ পুরোপুরি বিলীন বা বর্তমান সীমানা হারিয়ে নতুন রূপ নিতে পারে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় উঠে এসেছে।
ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে মূলত তিনটি প্রধান কারণে ভাগ করা হয়েছে:
১. জলবায়ু ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকিতে:
- মালদ্বীপ ও কিরিবাতি: সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা দ্রুত বাড়তে থাকায় এই দ্বীপরাষ্ট্রগুলো সাগরে তলিয়ে যাওয়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। মালদ্বীপ তো ইতোমধ্যেই নাগরিকদের পুনর্বাসনের জন্য বিদেশে জমি কেনার কথা ভাবছে।
- টুভালু: জোয়ারের পানি ও সুপেয় পানির সংকটে দেশটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ফলে নাগরিকরা দলে দলে বিদেশ পাড়ি জমাচ্ছেন।
২. অভ্যন্তরীণ জাতিগত ও রাজনৈতিক বিভাজনে:
- বেলজিয়াম ও যুক্তরাজ্য: ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বিভাজনের কারণে বেলজিয়াম এবং ব্রেক্সিটের পর স্কটল্যান্ড ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতার দাবির মুখে যুক্তরাজ্য ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
- স্পেন ও বসনিয়া–হার্জেগোভিনা: কাতালোনিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদ স্পেনের জন্য এবং তিনটি জাতিগোষ্ঠীর জটিল ক্ষমতার দ্বন্দ্ব বসনিয়ার ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
- সাইপ্রাস ও মলদোভা: ১৯৭৪ সাল থেকে সাইপ্রাস কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত। অন্যদিকে ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে মলদোভা ভেঙে যাওয়া বা রোমানিয়ার সঙ্গে একীভূত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে।
৩. গৃহযুদ্ধ, সশস্ত্র সংঘাত ও শাসনতান্ত্রিক সংকটে:
- ইয়েমেন, লিবিয়া ও সোমালিয়া: দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ ও একাধিক অভ্যন্তরীণ প্রশাসনের কারণে ইয়েমেন, লিবিয়া এবং সোমালিল্যান্ডের আলাদা অস্তিত্বের কারণে সোমালিয়া স্থায়ী বিভক্তির পথে।
- ইরাক ও হাইতি: কুর্দিস্তানের স্বায়ত্তশাসন ও শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্ব ইরাককে এবং সশস্ত্র গ্যাংদের সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা হাইতির রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
- উত্তর কোরিয়া: চরম খাদ্য ও অর্থনৈতিক সংকট এবং বাইরের তথ্যের অনুপ্রবেশের কারণে কিম রাজবংশের পতন হলে দেশটির বর্তমান কাঠামো বিলীন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত: গবেষকদের মতে, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং জলবায়ু অভিযোজন জোরদার করা না গেলে শুধু কোটি কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুতই হবে না, বরং আগামী শতাব্দীতে বিশ্বের মানচিত্রে এক আমূল পরিবর্তন দেখা যাবে।
