মার্কিন বাজারে রেকর্ড মূল্যস্ফীতি, ট্রাম্পের মন্তব্য ‘মুদ্রাস্ফীতি ভালোবাসি’ নিয়ে তোলপাড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিতর্কিত মন্তব্য বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, ‘আমি মুদ্রাস্ফীতি ভালোবাসি।’
গত বুধবার (১০ জুন) প্রকাশিত সরকারি তথ্যমতে, মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৪.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা এপ্রিল মাসে ছিল ৩.৮ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিই এই পরিস্থিতির মূল কারণ।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প এই সংখ্যাগুলোকে ‘দারুণ’ বলে অবিহিত করেন। তবে একই সাথে তিনি দাবি করেন যে, বর্তমানের এই সংকটটি একেবারেই সাময়িক। ইরান সংকটের অবসান ঘটলে তেলের দাম কমবে এবং মূল্যস্ফীতিও দ্রুত হ্রাস পাবে।
জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে তার প্রশাসন বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প ২০২৬ সালের শুরুর দিকে আইওয়া সফরের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, সেখানে তিনি প্রতি গ্যালন পেট্রোল মাত্র ১.৮৫ ডলারে বিক্রি হতে দেখেছেন এবং খুব শিগগিরই মার্কিন বাজার আবারও সেই স্তরে ফিরে আসবে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় যখন আকাশচুম্বী, তখন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্য জনমনে নেতিবাচক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে। অবশ্য হোয়াইট হাউস সাফাই গেয়ে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট মূলত ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতি কমে আসার জোরালো সম্ভাবনার কথা বোঝাতেই ইতিবাচকভাবে এই মন্তব্য করেছেন।
এদিকে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন যে, তেলের বৈশ্বিক মানদণ্ড ‘ব্রেন্ট ক্রুড’ এখনও যুদ্ধ-পূর্ববর্তী স্তরের চেয়ে অনেক বেশি দামে লেনদেন হচ্ছে। বৈশ্বিক এই ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে মার্কিন প্রবৃদ্ধি এবং ভোক্তাদের জীবনযাত্রার ওপর চাপের এই মেয়াদ আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
সূত্র: বিবিসি
